কৃত্রিম উপগ্রহ কি | কৃত্রিম উপগ্রহ কিভাবে কাজ করে | Satellite | How Work Satellite In Bengali

কৃত্রিম উপগ্রহ: এই মুহূর্তে আপনার হাতের মধ্যে থাকা মোবাইল ফোন আপনার ঘরে চলতে থাকায় টেলিভিশন সমস্ত কিছুই কোনো না কোনোভাবে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট এর সঙ্গে যুক্ত আছে। নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য এ ধরনের নির্দিষ্ট স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘুরে যা থেকে আমরা আমাদের মোবাইল, টেলিভিশন বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক্স বিষয়গুলিকে চালাতে পারি।

বিভিন্ন তথ্য কে এই স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহগুলি আমাদের হাতের কাছে নিয়ে আসতে সাহায্য করে বা তাকে দেখতেও সাহায্য করে। বর্তমান বিশ্বে স্যাটেলাইট / কৃত্রিম উপগ্রহের অবদান অনেকখানি। এই আর্টিকেলটিতে কৃত্রিম উপগ্রহ ও কৃত্রিম উপগ্রহের কাজ করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হলো।

 

উপগ্রহ কি ?

উপগ্রহ নামটির সঙ্গে কমবেশি আমরা সবাই পরিচিত। মহাবিশ্বে এমন কতগুলি বস্তু সূর্যকে বা বিভিন্ন নক্ষত্র কে কেন্দ্র করে ঘুরে বেড়াই যাকে আমরা বলি গ্রহ যাদের নিজস্ব কোন আলো থাকে না অন্যের আলোতে আলোকিত হয়, যেমন ধরুন আমাদের পৃথিবী বা আমাদের মঙ্গল ও শুক্র গ্রহ গুলি।

 

কৃত্রিম উপগ্রহ কি | কৃত্রিম উপগ্রহ কিভাবে কাজ করে
কৃত্রিম উপগ্রহ
কৃত্রিম উপগ্রহ

 

আর যে সকল গ্রহগুলি কোন গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরে বেড়ায় সেই সকল গ্রহগুলি কে আমরা বলি উপগ্রহ। এ ধরনের উপগ্রহ হল চাঁদ কারণ চাঁদ আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে বেড়ায়। তাহলে চাঁদ একমাত্র একটি গ্রহ যা আমাদের পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে তাই চাঁদ আমাদের একমাত্র উপগ্রহ

 

কিন্তু এমন অনেক গ্রহ আছে যে মানুষ তৈরি করে মহাকাশে পাঠিয়েছে এবং যারা নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঠিক চাঁদের মত নেই পৃথিবী কে কেন্দ্র করে ঘুরছে ও পৃথিবীতে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাহায্য করে। যেহেতু এরা মানুষের তৈরি তাই এদের নাম দেয়া হয়েছে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট। এখানে এই স্যাটেলাইট এর বিভিন্ন উপাদান ও তার কার্যকারিতা সম্পর্কে জেনে নেব।

 

কৃত্রিম উপগ্রহ কিভাবে কাজ করে

আমরা সবাই জানি অনেক কৃত্রিম উপগ্রহ অর্থাৎ স্যাটেলাইট আমাদের পৃথিবী কে প্রদক্ষিণ করে চলেছে এবং এ স্যাটেলাইটগুলো আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলেছে। আপনি হয়তো এই তথ্যটি জেনে আরো আশ্চর্য হবেন যে সর্বমোট আমাদের পৃথিবী কে কেন্দ্র করে 49 হাজারের মতো কৃত্রিম উপগ্রহ প্রতিমুহূর্তে কাজ করে চলেছে।

 

কিন্তু সবথেকে কঠিন যে বিষয়টি আমাদের মাথায় কাজ করে তা হল এই বিভিন্ন বিভিন্ন স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহগুলি কেন বিভিন্ন অরবিটে অর্থাৎ কক্ষপথে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। একটা স্যাটেলাইট কিভাবে তার কাজ করে, এবং একটি স্যাটেলাইট এর মধ্যে কি কি উপাদান থাকে যেগুলো স্যাটেলাইটকে তার কাজগুলো করার জন্য সাহায্য করে।

 

উপরের এই সকল প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে আজ আমাদের এই আর্টিকেলটি লেখা সুতরাং আর্টিকেলটি পড়লেই এই সকল প্রশ্নের উত্তর আপনি খুব সহজেই পেয়ে যাবেন।

 

একটা স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ যখন পৃথিবী কে কেন্দ্র করে ঘোরে তখন দুই ধরনের বল কাজ করে। অর্থাৎ মনে করতে পারেন দুই ধরনের বল এই স্যাটেলাইট গুলোকে পৃথিবী কে কেন্দ্র করে ঘোরানোর জন্য কাজ করে থাকে।

 

এর মধ্যে একটি হলো পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যেটি সব সময় এই উপগ্রহ গুলি কে বা স্যাটেলাইটকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে টেনে রাখে। আর এই মহাকর্ষ টেনের জন্য স্যাটেলাইট গুলি তার নিজের কক্ষপথে কখনো বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে না।

 

এছাড়া আর এক প্রকারের বল এই স্যাটেলাইট উপগ্রহের উপর কাজ করে তা হল কেন্দ্রাতিগ বল। এই ফোর্স বা বল কে সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স ও বলা হয়ে থাকে। আর এই বল টির জন্য কোন স্যাটেলাইট তার নিজের কক্ষপথে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে না।

তাহলে বুঝতে পারলেন যে একটি গ্র্যাভিটেশনাল ফোর্স ও আরেকটি সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স দুটি বিপরীতভাবে একটি স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের উপর কাজ করে যার ফলে কৃত্রিম উপগ্রহটির নির্দিষ্ট কক্ষপথে চলতে পারে কখনো তার কক্ষ বছরে বাইরে চলে যায় না আবার কখনো পৃথিবীর মহাকর্ষ টান এর ফলে পৃথিবীর দিকে ছুটে চলে আসে না।

 

যদি আমরা একটি পাথরকে সুতো দিয়ে বেঁধে সুতোর অপরপ্রান্ত হাতের আঙ্গুল নিয়ে ঘোরাতে থাকি তবে একই ধরনের দুটি ফোর্স বা বল ক্রিয়াশীল থাকে একটি হলো আঙ্গুলের দিকে ছুটে আসা শক্তি যাকে আমরা উপগ্রহের ক্ষেত্রে বলবো মহাকর্ষ টান আর আরেকটি হলো কেন্দ্রাতিগ বল অর্থাৎ যার জন্য নির্দিষ্ট পথ এই পাথরটি একই রকমভাবে কৃত্রিম উপগ্রহটি ঘুরছে।

 

এখানে একটি শক্তি সবসময়ই পাথরটাকে বাইরে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে আর পাথরের বাঁধা সুতো টির জন্য কখনো পাথরটি বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে না।

 

একটি স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ কে যখন মহাকাশে পাঠানো হয় তখন তার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট পরিমান শক্তি দিয়ে দেওয়া হয় যার মাধ্যমে সে তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে গিয়ে একি শক্তি নিয়ে ঘুরতে পারে। এবং ওই শক্তি উপগ্রহটির উপর পড়া গ্র্যাভিটেশনাল ফোর্স ও সেন্টিফিউগাল পুল ক্যান্সেল হয়ে যায়।

 

যদি কোন স্যাটেলাইট কে পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে রাখার প্রয়োজন হয় তখন এই শক্তি বেশি প্রয়োজন হয় আর যখন দূরের কক্ষপথের রাখার প্রয়োজন হয় তখন এ শক্তি কম হয়ে যায়। স্যাটেলাইট এর সঙ্গে যে শক্তি দিয়ে দেওয়া হয় তা একই রকম ভাবে থাকে। এর কারণ হিসেবে আমরা নিউটনের প্রথম সূত্র কে বর্ণনা করতে পারি।

 

নিউটনের প্রথম সূত্র অনুযায়ী যদি বাধা না থাকে তবে কোন বস্তু একই বেগে চলতে থাকে। আর মহাকাশে স্যাটেলাইট / উপগ্রহ গুলি কে বাধা দেয়ার মত কোন ব্যাপার থাকে না তাই যে ফোর শক্তি নিজে থেকে একবার ওদের মধ্যে প্রয়োগ করে দেয়া হয় ওরা একই শক্তিতে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।

 

কোন স্যাটেলাইট কে তাদের কাজ অনুযায়ী তিনটি কক্ষপথ বা অরবিট এ ভাগ করা হয় – প্রথমটি হলো লো আর্থ অরবিট, দ্বিতীয় টি হল – মিডিয়াম আর্থ অরবিট ও তৃতীয় টি হল – জিও সিনক্রোনাস অরবিট। অরবিট বা কক্ষপথগুলি কে এই ভাবে ভাগ করে দেওয়ার পিছনে একটা যুক্তি আছে –

 

এই যুক্তিকে খন্ডন করতে গেলে আমাদের জানতে হবে ভ্যান হেলেন বেল্ট কি। একটি অদৃশ্য ম্যাগনেটিক ফিল্ড বা চুম্বকীয় ক্ষেত্র আমাদের পৃথিবী কে ঘিরে আছে। যে চুম্বকীয় ক্ষেত্র সূর্য থেকে আসা বিভিন্ন রশ্মিকে পৃথিবীতে আসতে বাধা দেয়। তবে এমন নয় যে এই ক্ষেত্র বা বলয় গুলির মধ্যে কোন রেডিয়েশন থাকে না এই সকল বলয় এর মধ্যেও প্রচুর রেডিয়েশন থাকে।

 

আর পৃথিবীর চারিদিকে এইযে চুম্বকীয় ক্ষেত্র যার এডিসনকে আসতে বাধা দেয় এই ক্ষেত্রকে আমরা বলি ভ্যান হেলেন বেল্ট। এই বলয়ের মধ্যে যে চার্জ পার্টিকেল আছে তা যে কোন উপগ্রহ কে ধ্বংস করে দিতে পারে, যদি সেটি কন্টিনিউ এই বেল্টের মধ্যে অবস্থান করে।

 

কি কারনে যখন স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয় তখন সেই সমস্ত অরবিট / কক্ষপথকে বাদ দেওয়া হয় যে কক্ষপথগুলি এই ভ্যান হেলেন বেল্ট এর মধ্যে অবস্থান করছে। আরে স্যাটেলাইট গুলোর কাজের উপর ভিত্তি করে এদেরকে কোন অরবিটে স্থাপন করতে হবে তা নির্ণয় করা হয়।

 

যদি কোন স্যাটেলাইট কে পৃথিবীর জলবায়ু সম্বন্ধীয় তথ্য, জিওগ্রাফিক্যাল তথ্য নেওয়ার জন্য মহাকাশে পাঠানোর প্রয়োজন হয় তখন তাকে লো আর্থ অরবিট স্থাপন করা হয়। এই লো আর্থ অরবিটের পরিসীমা মোটামুটি পৃথিবী থেকে 160 থেকে 2 হাজার কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান বলে ধরা হয়। আর এই অরবিটে পাঠানো স্যাটেলাইট গুলি দেড় ঘন্টা সময় এর কাছাকাছি পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে ফেলতে পারে।

 

লো আর্থ অরবিট পাঠানো স্যাটেলাইট গুলির একটি সমস্যা হলো তারা দ্রুত পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পারলেও পৃথিবীর বেশি এলাকাকে এরা কভারেজ করতে পারে না। এ কারণে পৃথিবীর সমস্ত তথ্য পেতে গেলে সেই সমস্ত স্যাটেলাইট গুলিকে জিও সিনক্রোনাস অরবিট স্থাপিত করতে হয়। জিও সিনক্রোনাস অরবিট মোটামুটি পৃথিবী থেকে 35 হাজার সাতশ ছিয়াশি কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করে।

 

জিও সিনক্রোনাস অরবিট যে সমস্ত স্যাটেলাইট গুলিকে পাঠানো হয় সেগুলি পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির সমান স্পিডে ঘোরে। সুতরাং এই কক্ষপথের কৃত্রিম উপগ্রহ গুলি কে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর সমান সময় অর্থাৎ 23 ঘন্টা 56 মিনিট এর মত সময় লাগে।

 

একটি মজাদার বিষয় হলো ব্রডকাস্টিং এর জন্য আমাদের ছাদে বা বাড়িতে লাগানো টেলিভিশনের যে সমস্ত ডিশ এন্টিনা গুলি থাকে সেগুলি একটি নির্দিষ্ট দিকে লাগানো থাকে। সিগন্যাল পেতে গেলে এদেরকে কখনো বা কোন সময় ঘুরিয়ে অন্যদিকে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এর কারণ হলো ওই ডিসের ব্রডকাস্টিং সিগন্যাল দেওয়ার জন্য যে স্যাটেলাইট থাকে সেটি জিও সিনক্রোনাস অরবিট বসানো থাকে। এর ফলে একবার সিগন্যাল ভালোভাবে আসতে শুরু করলে তা আর পরবর্তী সময়ে সমস্যার সৃষ্টি করেনা।

কৃত্রিম উপগ্রহ কি
কৃত্রিম উপগ্রহ

 

এই কক্ষপথ বরাবর আরেকটি স্পেশাল অরবিট আছে যা হলো – জিওস্টেশনারি বেল্ট। টিভি ব্রডকাস্টিং এর সমস্ত স্যাটেলাইটগুলো এই বেল্টে বসানো থাকে। আর এই বেল্ট টি তে প্রচুর পরিমাণে স্যাটেলাইট পার্ক করানো থাকে। আর এই সকল কৃত্রিম উপগ্রহ গুলি কে পরিচালনা করার জন্য একটি সংস্থা কাজ করে। এই সংস্থাটির নাম হল আই টি ইউ ( ITU ) অর্থাৎ ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন

 

একটি স্যাটেলাইট এর মধ্যে কি কি থাকে

একটি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট এর মধ্যে যে যে বিষয়গুলি থাকে তার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী বিষয়টি হলো ট্রান্সপন্ডার। ট্রান্সপন্ডার এর কাজ হল সে সিগন্যাল রিসিভ করেছে সেই সিগন্যালকে অবস্থা অনুযায়ী তার ফ্রিকুয়েন্সি গুলোকে চেঞ্জ করা। রিসিভ করা ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে যদি কোন রকম নয়েজ থাকে তাহলে সেই নয় এটাকে ক্যানসেল করা এবং সর্বোপরি রিসিভ করা সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফাই করা।

 

একটি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট এর মধ্যে একাধিক ট্রান্সপন্ডার থাকতে পারে। আর এই ট্রান্সপন্ডার গুলিকে সক্রিয় থাকার জন্য প্রয়োজন হয় ইলেকট্রিক পাওয়ার এর অর্থাৎ কারেন্টের। যে কোন স্যাটেলাইট এর মধ্যে এই ধরনের কারেন্ট বা পাওয়ার সাপ্লাই এর জন্য দুটি অপশন থাকে – একটি হলো সোলার প্যানেল অপরটি ব্যাটারি।

 

সাধারণভাবে স্যাটেলাইটের সাথে লাগানো সোলার প্লেট এর মাধ্যমে যে কোন কৃত্রিম উপগ্রহ পাওয়ার পেয়ে থাকে কিন্তু যখন সূর্য গ্রহণ হয় তখন সূর্যের রশ্মি এই প্লেটে না পরার জন্য তা পাওয়ার থেকে বঞ্চিত হতে পারে এইজন্য এর মধ্যে ব্যাটারি লাগানো থাকে।

 

প্রত্যেকটা স্যাটেলাইট এর মধ্যে একটি করে সান সেন্সর লাগানো থাকে এর কাজ হল সূর্যের আলোর উপর নির্ভর করে সূর্যের দিক কে নির্ধারণ করা। এই সান সেন্সর এর জন্য স্যাটেলাইটের সাথে থাকা সোলার প্যানেল দুটি সূর্যের অভিমুখে দিক পরিবর্তন করতে পারে।

 

পৃথিবীর নিজস্ব আকৃতি একদম গোলাকার নয় কোথাও উঁচু কোথাও নিচু এ কারণে পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর সব জায়গাতে মহাকর্ষ বল সমান নয় কোথাও কম আবার কোথাও বেশি। এ কারণে কোন উপগ্রহ ঘোরার সময় এই বল কমবেশির জন্য কক্ষপথের বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। এই সমস্যা থেকে কৃত্রিম উপগ্রহ কে বাঁচানোর জন্য এর মধ্যে একটি থ্রাস্টার লাগানো থাকে। যা স্যাটেলাইট গুলোকে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।

 

যদি কখনো মহাকাশে এ রকম অবস্থার সৃষ্টি হয় যে কোন উপগ্রহ তার নিজস্ব অরবিট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে তখন এই সকল থ্রাস্টার কাজে আসে। তখন এই সকল থ্রাস্টার কে একটিভ করে তাকে তার নিজস্ব কক্ষপথের সচল রাখা সম্ভব। আর এই থ্রাস্টার কে চালু হওয়ার জন্য যে জ্বালানীর প্রয়োজন তা আগে থেকেই ওই কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে দেওয়া থাকে।

 

পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টির একটি শেষ আছে এটা আমরা সকলেই জানি তাহলে আপনি কি কখনো ভেবেছেন যে যেসকল কৃত্রিম উপগ্রহগুলি মহাকাশে পাঠানো হয় তারা একটা নির্দিষ্ট সময়ে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এবং সেই ধ্বংস হয়ে যাওয়া বা শেষ হয়ে যাওয়া উপগ্রহগুলি কোথায় যায় বা কিভাবে যায়।

 

যে সমস্ত কৃত্রিম উপগ্রহ গুলি একটা সময় শেষ হয়ে যায় তারা অন্য সকল উপগ্রহ কে ক্ষতি করতে পারে বা পৃথিবী থেকে যাওয়া কোন স্পেস রকেট কেউ ক্ষতি করতে পারে এ কারণে এদেরকে গ্রেভ ইয়ার্ড অরবিট এ পাঠিয়ে দেয়া হয়। এই গ্রেভ ইয়ার্ড অরবিট কে কৃত্রিম উপগ্রহের কবরখানা বলা হয়।

 

যখন কোন কৃত্রিম উপগ্রহ কে গ্রেভ ইয়ার্ড কক্ষপথে পাঠানোর প্রয়োজন হয় তখন সেই কৃত্রিম উপগ্রহের থ্রাস্টার অন করে দেয়া হয় এবং প্রচুর স্পিড বাড়িয়ে দিয়ে তাকে এই ধরনের কক্ষপথে একদম বিলীন করে দেওয়া হয় কৃত্রিম উপগ্রহ গুলি কে। আর এই গ্রেভ ইয়ার্ড অরবিট টি জিও স্টেশনারি অরবিট থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

 

আর যে সমস্ত কৃত্রিম উপগ্রহ গুলি জিপিএস এর জন্য কাজ করে সে গুলিতে মূলত দুটি জিনিস থাকে এখনো এটমিক ক্লক আর এন্টিনা। যেসকল কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো হয় তাদের প্রত্যেকের মধ্যে কিছু কমন পার্টিকেল থাকে যা হলো সোলার প্যানেল পাওয়ার দেওয়ার জন্য ব্যাটারি থ্রাস্তার, এন্টিনা ইত্যাদি। আর নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য যে যে যে কম্পোনেন্টগুলো প্রয়োজন সেই সেই কম্পনেন্ট।

 

আপনি হয়তো কখনো দেখে থাকবেন যে কোন কৃত্রিম উপগ্রহ গুলি কে একটি সোনালি চাদরে মুড়ে দেয়া হয় আসলে এটি শুধুমাত্র সোনালী চাদর থাকে না কয়েক প্রকার জাতীয় চাদরে মোড়া থাকে। মহাকাশে তাপমাত্রার প্রচুর ওঠানামা হয় আর এই ধরনের তাপমাত্রা ও বিভিন্ন রেডিয়েশন থেকে উপগ্রহ গুলি কে বাঁচানোর জন্য এই ধরনের চাদর দিয়ে মুড়ে দেয়া হয়।

 

👉👉  একটি স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ কি এবং কিভাবে সেই কৃত্রিম উপগ্রহ কাজ করে এবং তার বিভিন্ন উপাদান নিয়ে এখানে আমরা বিস্তারিতভাবে আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এছাড়াও বিভিন্ন পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনেক হিসাব-নিকাশ নিয়ে একটি স্যাটেলাইট কে তৈরি করা হয় এবং তাকে মহাকাশে স্থাপিত করা হয়।

 

একটি কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট নিয়ে যে কয়েকটি প্রধান বিষয় আমাদের জানার আগ্রহ থাকে সেগুলো এখানে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া অন্য সকল আগ্রহী বিষয় গুলি আমাদের ওয়েবসাইট থেকে আপনি দেখে নিতে পারেন।

Leave a Comment